নিজস্ব সংবাদদাতা : বর্ষাকালে আবহাওয়া তুলনামূলক ঠান্ডা থাকায় অনেকেরই তেষ্টা কম পায়। তাই পর্যাপ্ত জল পান করেন না। অনেকেই ভাবেন বর্ষায় বোধহয় শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন হওয়াড় ঝুঁকি নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা একেবারেই ভুল। বর্ষাতেও ডিহাইড্রেশন হতে পারে, আর তা দীর্ঘদিন অজান্তেই কিডনির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্ষাকালে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে জল দ্রুত বেরিয়ে যায়। পাশাপাশি ডায়ারিয়া, বমি বা ভাইরাল সংক্রমণের মতো মরশুমি অসুস্থতার কারণেও শরীর থেকে প্রচুর জল ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু অনেকেই তা বুঝতে পারেন না, কারণ এই সময়ে তৃষ্ণা কম অনুভূত হয়। বৃষ্টির সময় তাপমাত্রা কম থাকলেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। ফলে শরীর থেকে ঘাম বের হলেও তা সহজে শুকোয় না। এতে কতটা জল শরীর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। অন্যদিকে, তৃষ্ণা কম লাগায় স্বাভাবিক ভাবেই জল খাওয়ার পরিমাণও কমে যায়। এই দুই কারণ মিলেই ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। কিডনির প্রধান কাজ হলো রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করা এবং শরীরে জল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা। কিন্তু শরীরে জলের ঘাটতি হলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। তখন শরীর মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেয়, ফলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ সাময়িক ভাবে কমে যায়। এর ফলে প্রি–রেনাল অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবিটিস বা দীর্ঘদিনের কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষ এবং সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠা রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি। এছাড়া ডিহাইড্রেশনের কারণে প্রস্রাব ঘন হয়ে গেলে কিডনিতে পাথর এবং ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, ডায়াবিটিস বা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, বাইরে কাজ করেন এমন মানুষ, খেলোয়াড়, দীর্ঘ সময় যাতায়াত করেন যাঁরা এবং জ্বর, ডায়ারিয়া বা বমিতে ভুগছেন— তাঁদের ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া যাঁরা জল কম খেয়ে বারবার চা, কফি বা চিনিযুক্ত পানীয় পান করেন, তাঁদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বর্ষাকালে তেষ্টা না পেলেও নিয়মিত জল পান করুন। শুধু জল নয়, শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ঘোল, অল্প নুন মেশানো লেবুর জল এবং ডাবের জলও পান করতে পারেন। পাশাপাশি প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ থাকলে বুঝবেন শরীরে জলের মাত্রা ঠিক আছে। তাই বৃষ্টি হচ্ছে বলে জল খাওয়ার অভ্যাস কমাবেন না। পর্যাপ্ত জল পান করাই বর্ষায় কিডনিকে সুস্থ রাখার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়।
