নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা : দীর্ঘ ১৩ বছরের আন্দোলন, আদালতের লড়াই এবং বিচারপ্রক্রিয়া ঘিরে ক্ষোভ–অভিমানের আবহে অবশেষে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন কামদুনি আন্দোলনের দুই অন্যতম মুখ টুম্পা কয়াল ও মৌসুমী কয়াল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের এই বৈঠক নতুন করে কামদুনি–কাণ্ডেরবিচারপ্রক্রিয়াকেরাজনৈতিকওপ্রশাসনিকআলোচনারকেন্দ্রেনিয়েএসেছে।
সূত্রের খবর, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কামদুনি–কাণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। কলকাতা হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে রাজ্য। সেই মামলায় সরকার সর্বতোভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কামদুনি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকবে তাঁর সরকার। পূর্বে রাজ্যের আগের সরকার সুপ্রিম কোর্টে এই পরিবারের বিরোধিতা করলেও, এখন রাজ্য সরকার সরকারি আইনজীবী দিয়ে পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি টুম্পা ও মৌসুমীর নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বৈঠক শেষে টুম্পা ও মৌসুমী জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য মন দিয়ে শুনেছেন। দীর্ঘদিন ধরে যে ক্ষোভ ও হতাশা তাঁদের মধ্যে ছিল, তারঅনেকটাইতাঁরামুখ্যমন্ত্রীরসামনেতুলেধরেছেন।সুপ্রিমকোর্টেমামলারঅগ্রগতিনিয়েওবিস্তারিতআলোচনাহয়েছে।সরকারেরতরফেইতিবাচকআশ্বাসপাওয়ারকথাওতাঁরাজানিয়েছেন।
২০১৩সালের৭জুনউত্তর২৪পরগনারকামদুনিতেএককলেজছাত্রীকেগণধর্ষণওনৃশংসভাবেখুনেরঘটনায়গোটারাজ্যউত্তালহয়েউঠেছিল।আন্দোলনেরসামনেরসারিতেছিলেনগ্রামেরবাসিন্দাটুম্পাকয়ালওমৌসুমীকয়াল।
২০১৬ সালে নিম্ন আদালত তিন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেও, ২০২৩ সালে কলকাতা হাই কোর্ট সেই রায়ে পরিবর্তন আনে। মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয় দুই অভিযুক্তকে, কয়েক জন অভিযুক্ত খালাসও পান। এরপরই সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং আন্দোলনকারীরাও। এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিকসময়েকামদুনিআন্দোলনেরকয়েকজনমুখবিভিন্নরাজনৈতিকশিবিরেরসঙ্গেযুক্তহওয়ায়আন্দোলনেরভবিষ্যৎনিয়েনানাপ্রশ্নউঠেছিল।তবেনবান্নেরবৈঠকেরপরঅন্ততবিচারপ্রক্রিয়াকেসামনেরেখেইসরকারওআন্দোলনকারীদেরমধ্যেনতুনকরেযোগাযোগেরসেতুতৈরিহয়েছেবলেইরাজনৈতিকপর্যবেক্ষকদেরএকাংশেরমত।
কামদুনি–কাণ্ডের বিচার এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়নি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকেই এখন নজর সকলের। আর সেই অপেক্ষার মধ্যেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎকে বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


