নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা : ১৪৪ থেকে বেড়ে ওয়ার্ডের সংখ্যা ২০০ হলে লোকবল বাড়াতে হবে। এখন যা কর্মিসংখ্যা, তাতে কাজ সামাল দিতে কার্যত গলদঘর্ম অবস্থা হবে বলে কলকাতা পুরসভার অন্দরেই চর্চা শুরু হয়েছে। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়তে চলেছে। পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে সোমবার জানান, কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০০ হবে।
নতুন ৫৬টি ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিষেবা প্রদান এবং প্রশাসনিক কাজ সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য স্বাভাবিকভাবেই নতুন কর্মী নিয়োগের দাবি উঠছে। তার পরেই কলকাতা পুরসভার অলিন্দে প্রশ্ন উঠেছে, ৫৬টি ওয়ার্ড বাড়লে কলকাতা পুরসভায় কর্মীদের সংখ্যাও বাড়বে তো? পুরসভার অফিসারদের একাংশের বক্তব্য, কলকাতা পুরসভায় এখন যত কর্মী, তাঁদের দিয়ে ২০০টি ওয়ার্ডের কাজ সামলানো এক রকম অসম্ভব।
পুরসভার একাধিক সূত্রের খবর, এক সময়ে কলকাতা পুরসভায় কর্মী ছিলেন প্রায় ৩৮ হাজার, তবে ২০১০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের জমানায় সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ২৩ হাজারের কাছাকাছি। পুরসভার একাধিক বিভাগের অাধিকারিকরা জানাচ্ছেন, আগে যে কাজের জন্য ৯–১০ জন কর্মী থাকতেন, এখন সেই কাজ করছেন সাকুল্যে তিন–চার জন কর্মী। তবে ওই অফিসারদের বক্তব্য, পুরোনো বহু পদ বাতিল করে নতুন অনেক পদ তৈরির পরিকল্পনা করেছিল বিগত পুরবোর্ড। তবে সেই পরিকল্পনা কার্যকর করার আগেই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়ে যায়। কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন কর্মচারী ইউনিয়ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন পুরসভার সদর কার্যালয়ে কাজ করেন প্রায় ১৬ হাজার কর্মী। বাকি সাত হাজার কর্মী রয়েছেন বিভিন্ন বরো অফিস, পুরসভার স্কুল, শ্মশান, পাম্পিং স্টেশন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অন্য কয়েকটি জায়গায়। ওয়ার্ড বা প্রশাসনিক অঞ্চল বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই কাজের পরিধি ও জনপরিষেবা নিশ্চিত করতে কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তবে বাস্তবে কর্মী নিয়োগ সম্পূর্ণ নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বোর্ডের আর্থিক সক্ষমতা এবং নিয়োগ নীতির ওপর।


